ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প'রী'ক্ষা'নি'রী'ক্ষা'র স'হ'স্রা'ধি'ক যন্ত্র বিকল, বি'পা'কে রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৯-০৫ ১১:৩২:৫৮
প'রী'ক্ষা'নি'রী'ক্ষা'র স'হ'স্রা'ধি'ক যন্ত্র বিকল, বি'পা'কে রোগী পরীক্ষানিরীক্ষার সহস্রাধিক যন্ত্র বিকল, বিপাকে রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে সহস্রাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষানিরীক্ষার যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। সরকারের 'ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার' (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। নিমিউ অ্যান্ড টিসির একজন কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার কারণে সিংহভাগ রোগী পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সর্বশ্বান্ত হচ্ছেন। আবার পরীক্ষানিরীক্ষার সব ব্যবস্থা থাকার পরও দালালচক্র রোগীদের ভাগিয়ে বাইরে নিয়ে যায়। এই বাণিজ্য প্রায় সব সরকারি হাসপাতালে চলছে। এদিকে এই সকল যন্ত্রপাতি মেরামত করার নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এক্স-রে, এমআরআই ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ একাধিক যন্ত্র প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। শর্ত অনুযায়ী মেরামত করার সময় থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মেরামতের জন্য জানানো হয়। চিঠি চালাচালি করতে করতে কিংবা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার পর একজন ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনেশিয়ান পাঠায়। তা-ও আসতে অনেক দিন পার হয়ে যায়। আর রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে হয়রানি আরো বেড়ে যায়। তখন মহাখালীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি মেরামত কারখানায় পাঠানো হয়। ঐ প্রতিষ্ঠানে মেরামত করা সম্ভব হলে করে দেয়। আর যন্ত্রাংশ না থাকলে সরবরাহ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে মাসের পর মাস চলে যায়। এতে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আবার ঠিকাদার নিয়োগ আর যন্ত্রাংশ কেনাকাটা নিয়ে 'পুকুর চুরি' হয়। অনেক ক্ষেত্রে মেরামত করার পর কিছুদিন পর যন্ত্রটি আবার বিকল হয়ে যায়।

 

সরেজমিনে মহাখালীর সরকারি যন্ত্রপাতি মেরামত কারখানা 'নিমিউ অ্যান্ড টিসি'-তে গিয়ে একা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ কারখানায় জনবল সংকট রয়েছে। কারখানাটি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পুরাতন ১৬টি জেলায় এর কার্যালয় স্থাপন করার পরামর্শ দেন। তাহলে দ্রুত বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বিকল যন্ত্রপাতি মেরামত সহজ হবে বলে তিনি জানান।

 

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, এই পরিস্থিতি নিরসন করতে হলে, প্রতিটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতালে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু করা জরুরি। দেশে এই ধরনের জনবল তৈরি হয়ে আসছে কয়েক বছর আগে থেকে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালসহ (বুয়েট) আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে।

 

সরেজমিনে বুয়েটে গিয়ে জানা যায়, এই বিভাগটি ৫ বছরের বেশি সময় আগে চালু হয়েছে। প্রতি বছর বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পাশ করে জনবল বের হচ্ছে। তারা দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এ ছাড়াও অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে। তাই জনবলের অভাব নেই, দরকার শুধু সদিচ্ছার।

 

প্রসঙ্গত, ৯৮ ভাগ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বিশেষায়িত ইনস্টিটউটে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নেই। তবে নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও বার্ন ইনস্টিটিউটে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

 

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভাগীয়-জেলা হাসপাতালে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ এবং উপজেলা পর্যায় ডিপ্লোমা কিংবা প্রশিক্ষিত টেকনেশিয়ান দেওয়ার বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরি। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

 

 

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ